• ৬ কার্তিক ১৪৩৩, রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

NEET Paper Leak

দেশ

আন্দোলনে বড় জয়, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরও থামছে না ঝড়! এবার সংসদে কী হতে চলেছে?

ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবি পূরণ হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর পরই ককরোচ জনতা পার্টি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে। তবে আন্দোলন শেষ হলেও প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক থামেনি। সংসদের আসন্ন অধিবেশনে এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে চাপে রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির।বিরোধীদের বক্তব্য, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় বিষয়টির সমাধান হয়নি। তাঁদের দাবি, দেশের ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি, বিশে জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিতে হবে বলেও বিরোধীরা দাবি তুলেছে।সোমবার প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকা নতুন বিল সংসদে পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধীরা নিজেদের দাবিতে সরব হবে বলে জানা গিয়েছে।এই ইস্যুতে সংসদে যৌথ কৌশল ঠিক করতে সোমবার সকালে ইন্ডিয়া জোটের সংসদীয় দলের নেতাদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সংসদের দুই কক্ষে বিরোধীদের অবস্থান ও কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে, বিজেপি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আগের সরকার এবং বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশ্নফাঁস রোধে আনা নতুন বিলের আলোচনায় সেই বিষয়গুলিও তুলে ধরতে পারে শাসক দল।এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর এবার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনাকেও সংসদে বড় রাজনৈতিক ইস্যু করতে চাইছে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল। এই বিষয় নিয়ে সংসদের দুই কক্ষে মুলতবি প্রস্তাব আনার প্রস্তুতিও চলছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর।

জুলাই ২৬, ২০২৬
রাজ্য

সাংবাদিকের উপর হামলা গণতন্ত্রের লজ্জা, প্রতিবাদের নামে নৈরাজ্য নয়: শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্রের

কলকাতা: সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র। তাঁর বক্তব্য, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও সেই প্রতিবাদের নামে সাংবাদিক, পুলিশ কিংবা অন্য কোনও কর্তব্যরত ব্যক্তির উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও জায়গা নেই।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে বহু সাংবাদিককে কাছ থেকে কাজ করতে দেখেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত সততা ও সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করে চলেছেন। ফলে সম্প্রতি সাংবাদিকদের উপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক উপস্থাপনায় পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত যে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল, সেগুলি রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। আরজি কর-কাণ্ড থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগএই ধরনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় বহু সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তাঁর মতে, সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাঁরা পেশাগত সততার পরিচয় দিয়েছেন, তাঁদের উপর আক্রমণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।সম্প্রতি কংগ্রেস, ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে ধর্মতলা পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, সেই মিছিল চলাকালীন তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও সাংবাদিক বা অন্য কারও উপর হামলা করা হয়নি।তবে তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আবহের মধ্যে কিছু মানুষ ঢুকে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে গোটা আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদের ভাষা যদি হিংসা ও নৈরাজ্যে পরিণত হয়, তাহলে মূল দাবি এবং আন্দোলনের উদ্দেশ্যই মানুষের কাছে আড়ালে চলে যায়।কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তিনি বক্তব্য রাখেন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের নীতি বা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিরোধ থাকতেই পারে। সরকারবিরোধী আন্দোলন করাও রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই প্রতিবাদের সময় পুলিশও তার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে। তাই পুলিশের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলা কিংবা সরকারি ও জনসাধারণের সম্পত্তি নষ্ট করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রত্যেকের পেশাগত অবস্থান নিয়ে তিনি মন্তব্য করছেন না। তবে হামলার শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের পেশাগত কাজের সঙ্গে পরিচিত। তাঁর দাবি, তাঁরা নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। একইসঙ্গে তিনি এমন কিছু সাংবাদিকের ভূমিকারও সমালোচনা করেন, যাঁরা অতীতে একতরফা সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগের মুখে পড়েছেন এবং বর্তমানে আক্রান্ত সাংবাদিকদের নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বা তাঁদের অপমান করার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, সাংবাদিকতার জগতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সহকর্মীর উপর হামলা বা আক্রমণকে কোনওভাবেই সমর্থন করা উচিত নয়।এদিকে, আজও প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিকেল ৫টায় কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা। শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইন মেনে প্রতিবাদ করতে ইচ্ছুক সকলকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যারা আন্দোলন করছেন, তাঁদেরও শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।বক্তব্যে বলা হয়, আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য যদি হয় শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরা এবং শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তাহলে সেই দাবিকে সামনে রেখেই গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন চালানো উচিত। আন্দোলনের মধ্যে হিংসা, ভাঙচুর বা নৈরাজ্য ঢুকে পড়লে মূল দাবি দুর্বল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিকভাবে তার প্রভাবও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তিনি বলেন, কোনও সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের লক্ষণ। কিন্তু গালিগালাজ, হিংসা, হামলা কিংবা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস কখনও সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকল্প হতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্রের মূল কাঠামো এবং আইনের শাসনকে সম্মান করতেই হবে।তাঁর কথায়, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতন্ত্র। সেই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম, প্রশাসন এবং সাধারণ নাগরিকসবার। তাই প্রতিবাদের অধিকার যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই প্রতিবাদের নামে নৈরাজ্য ও হিংসার বিরুদ্ধেও সম্মিলিতভাবে অবস্থান নিতে হবে।নিজের বক্তব্যের শেষে আক্রান্ত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনও চাপ বা হামলার কাছে নতি স্বীকার না করে সাংবাদিকদের তাঁদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। সত্য, সাধারণ মানুষের স্বার্থ এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতার পক্ষে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের নিরপেক্ষ নথি তৈরিতে সাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য।তাঁর বার্তা, মতপার্থক্য গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, কিন্তু হিংসা কখনও গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। প্রতিবাদ হোক, প্রশ্ন উঠুক, রাজনৈতিক লড়াই হোককিন্তু সেই লড়াই যেন কখনও নৈরাজ্যের পথে না যায়।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

সুপ্রিম কোর্টের দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা’, তরুণদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের

দেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের কোনও নাগরিক যদি অন্যায়ের শিকার হন, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাঁর অভিযোগ শোনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সর্বদা প্রস্তুত। বিশেষ করে তরুণদের আশ্বস্ত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগ তাঁদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।দেশজুড়ে চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং গত ২০ জুলাই দিল্লিতে চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া এক বক্তব্যে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্যায় হয়ে থাকলে সুপ্রিম কোর্ট আইন ও নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় সেই অভিযোগ শুনবে। যেখানে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে, সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।প্রধান বিচারপতির বলেন, আমি প্রতিটি নাগরিক এবং বিশেষ করে দেশের তরুণদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, যদি কারও প্রতি কোনো অবিচার হয়ে থাকে, তবে সুপ্রিম কোর্ট আইন ও নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমার মধ্যে থেকে সেই অভিযোগ শুনবে। যেখানেই সম্ভব, আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। জনগণের সমস্যা ও দুর্ভোগের সমাধানে বিচার বিভাগ সর্বদা প্রস্তুত।চলমান বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের যৌক্তিকতা বা দাবির গুণাগুণ নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের সামনে রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি শুনতে অস্বীকার করেছেএমন দাবি সঠিক নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।তিনি জানান, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যখন প্রথম আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল, তখন যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনও আবেদন দাখিল করা হয়নি। আদালতের কাছে জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে কেবল একটি চিঠি বা স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের চিঠি বা স্মারকলিপি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়েরের স্বীকৃত আইনি পদ্ধতি নয়।প্রধান বিচারপতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে কোনও বিষয় নিয়ে শুনানি চাইলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে যথাযথ আবেদন বা পিটিশন দাখিল করতে হয়। পরে যখন নিয়ম মেনে আবেদনগুলি দায়ের করা হয় এবং আদালতের সামনে সেগুলির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়, তখন সেগুলিকে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এই প্রসঙ্গেই প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুপ্রিম কোর্টের দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা। আদালত কোনও অবিচারকে প্রশ্রয় দেবে না।সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার আবহে প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। গত বুধবার ২০ জুলাইয়ের চলো সংসদ কর্মসূচিতে পুলিশের কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (suo motu) হস্তক্ষেপ করুকএমন মৌখিক আবেদন জানিয়েছিলেন এক আইনজীবী। সেই সময় আদালত বিষয়টি গ্রহণ না করায় নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়।এর পর শুক্রবার প্রকাশ্য আদালতেই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার সঙ্গে বেঞ্চে থাকা প্রধান বিচারপতি জানান, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে কোনও রিট পিটিশন দায়ের হয়নি। ফলে আদালত শুনানি বা তালিকাভুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেএমন খবরকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে সমালোচনা করেন।এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে দুটি নতুন আবেদনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। ওই আবেদনে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের কথিত বাড়াবাড়ি এবং ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হয়। আইনজীবী জানান, আবেদনগুলির জন্য ইতিমধ্যে ডায়েরি নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সেগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্তও হয়েছে।বিষয়টি শুনে প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, আবেদনগুলি সোমবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হবে। ফলে এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের পথ এখন কার্যত উন্মুক্ত হয়েছে।পুরো বিতর্কের সূত্রপাত গত ২০ জুলাইয়ের চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে হাজার হাজার ছাত্র ও বিক্ষোভকারী সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। যদিও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভকারীদের একাংশ সহিংস হয়ে ওঠে এবং পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।এই ঘটনাকে ঘিরে দিল্লি হাইকোর্টেও একাধিক আবেদন দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশি পদক্ষেপের সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।অন্যদিকে, আদালতের তৎপরতার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভেঙেছেন। এরপর শুক্রবার সিজেপি-র একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে।বৈঠককে গঠনমূলক বলে দাবি করলেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামছে না। পুলিশের ভূমিকার জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কথিত অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তদন্ত এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারএই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।ফলে একদিকে সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি নিয়ে শুনানির প্রস্তুতি, অন্যদিকে দিল্লি হাইকোর্টের নথি সংরক্ষণের নির্দেশ এবং কেন্দ্রের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনাসব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন একাধিক স্তরে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সুপ্রিম কোর্টের দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা মন্তব্য সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে বিচার বিভাগের ভূমিকা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।

জুলাই ২৫, ২০২৬
দেশ

নিট বিতর্কে রাতারাতি বড় সিদ্ধান্ত! এক ধাক্কায় বদলে যাচ্ছে পরীক্ষা ব্যবস্থা, সরানো হল বহু আধিকারিক

নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, আগামী এক মাসের মধ্যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির প্রশাসনিক কাঠামো, পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হবে। ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মের কোনও সুযোগ না থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।সংবাদ সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্থার সাতচল্লিশ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। যদিও এই দাবির বিষয়ে সরকারি স্তরে বিস্তারিত ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকাও নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নপত্র তৈরি, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে বর্তমান ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।দেশের বিভিন্ন জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা এই সংস্থার কাজকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনেরও পরিকল্পনা হয়েছে। প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে এই কমিটি সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন কাঠামো তৈরি করা হবে।নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ তীব্র হয়েছে। দিল্লিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনে বহু পড়ুয়া, অভিভাবক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই দ্রুত সংস্কারের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র।এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে বিদ্যমান আইনে সংশোধনের খসড়াও অনুমোদন করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দশ কোটি টাকা জরিমানার বিধান আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় অনিয়মে সাহায্যকারী ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের বিরুদ্ধেও কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে নির্দোষ পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনওভাবেই আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন, সেই বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এদিকে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় রয়েছেন। ফলে আগামী দিনে কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে গোটা দেশের।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বড় ঝড়! রাতারাতি সরানো হল শিক্ষা সচিব, কড়া বার্তা কেন্দ্রের

নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা দফতরে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন করল। শিক্ষা সচিবের পদ থেকে সরানো হয়েছে বিনীত যোশীকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নরেশ গাঙ্গোয়ারকে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের তরফে এই বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।চলতি বছরের জানুয়ারিতে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিনীত যোশী। এবার তাঁকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলশিক্ষা দফতরের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন টি কে অনিল কুমার। এর আগে তিনি গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব ছিলেন।বিনীত যোশী দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী। তিনি মণিপুরের মুখ্যসচিব ছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থার প্রথম মহাপরিচালকের দায়িত্বও সামলেছেন। শিক্ষা মন্ত্রক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ডেও গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।নতুন শিক্ষা সচিব নরেশ গাঙ্গোয়ার পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের একজন জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিক। এর আগে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দফতরের সচিব ছিলেন। শিক্ষা প্রশাসনেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাজস্থানের স্কুলশিক্ষা দফতরেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। রাজধানীতে লাগাতার বিক্ষোভ হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষা দফতরে এই বড় পরিবর্তন ঘটল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই একের পর এক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

প্রশ্ন ফাঁস করলেই আর রেহাই নয়! এবার তিন বছরের জেল, কোটি টাকার জরিমানার পথে কেন্দ্র

প্রশ্ন ফাঁস রুখতে এবার আরও কঠোর আইন আনার পথে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, নতুন আইনে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে ন্যূনতম তিন বছরের কারাদণ্ড এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হতে পারে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।বৃহস্পতিবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ধরনের ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের জীবনের সঙ্গে জড়িত। তাই গত কয়েক মাসে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শিক্ষাবর্ষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই দিকেই সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।সরকারি সূত্রের খবর, বর্তমান আইনে সংশোধন এনে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অপরাধে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, দোষীদের তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। যদি কোনও সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থেকে অনিয়মে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তবে সেই সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তদের পাঁচ থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।এর আগে প্রশ্ন ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কেন্দ্র। এবার আইনে সংশোধন এনে শাস্তি আরও কঠোর করার প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে সংশোধনী সংসদে পেশ করা হবে।এদিকে আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নিরপেক্ষ জায়গায় বৈঠকের দাবিতে সম্মতি জানিয়ে বৈঠকের স্থান হিসেবে কনস্টিটিউশন ক্লাব ঠিক করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী উপস্থিত থাকতে পারেন। আন্দোলনকারীদের দাবি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে সংসদে কবে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে খেলেন জল

নয়াদিল্লি: টানা ২৬ দিন অনশন করার পর অবশেষে অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরগাঁওয়ের মেডান্তা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁদের উপস্থিতিতেই অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক।সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রীর সহায়তায় কাপ থেকে জল পান করছেন ওয়াংচুক। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোও। অনশন ভাঙার পর ওয়াংচুক বলেন, আমি কৃতজ্ঞ এবং আনন্দিত যে আজ আমার অনশন ভাঙতে পারছি। আপনাদের ধন্যবাদ। স্ত্রী গীতাঞ্জলির উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি তাঁর পাশে থেকেছেন।অনশন ভাঙার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তায় ওয়াংচুক জানান, ২৬ দিন পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন অথবা চিঠির মাধ্যমে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর একাধিক শর্ত নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান ওয়াংচুক।আরও পড়ুনঃ দুই ঘণ্টার অপেক্ষার পর অবশেষে নাড্ডার সাক্ষাৎ! সিজেপিকে কী আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কী কী শর্তে তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন, তা শীঘ্রই একটি পৃথক ভিডিও বার্তায় বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের কোথাও যাতে কোনও ধরনের হিংসার ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন ওয়াংচুক।ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ওয়াংচুককে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে হবে এবং দ্রুত তাঁর হারানো ওজন ফিরে পেতে হবে। তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।এর আগে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের জবাবদিহি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা প্রতিবাদের মধ্যেই তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালেও তিনি তাঁর অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যান।END OF HUNGER... BEGINNING OF ACCOUNTABILITY...!Sonam Wangchuk ends his fast after 26 days upon getting assurance from the government and members of parliament of all political parties that the issue of accountability in the failing examination system will be discussed on the pic.twitter.com/0C9YX5VlsL Sonam Wangchuk (@Wangchuk66) July 24, 2026বুধবার ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে নাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া গেলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত। তাঁর আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি।আরও পড়ুনঃ পুলিশি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পথে সিজেপি, যন্তর মন্তরে তুমুল ধুন্ধুমারগত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে ছিলেন ওয়াংচুক। পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের জবাবদিহির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের জেরে তাঁর অনশন জাতীয় স্তরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।এদিকে, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের যাতে একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।Sonam Wangchuk ji has ended his fast after my colleagues, Shri @JPNadda ji and Shri @DrJitendraSingh ji met him at Medanta Hospital, Gurugram, and assured him of the governments commitment to address the concerns.Wangchuk jis decision to end his fast reflects his trust in the pic.twitter.com/T5KGB4X25b Piyush Goyal (@PiyushGoyal) July 24, 2026প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষায় অনিয়মের মতো গুরুতর মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মধ্যেই সোনম ওয়াংচুক তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভাঙায় আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
দেশ

নিট প্রশ্নফাঁসে মুখ খুললেন অভিনব বিন্দ্রা, এক বার্তায় নাড়িয়ে দিলেন দেশকে

নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে যখন প্রতিবাদের ঝড়, তখন মুখ খুললেন ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী অভিনব বিন্দ্রা। তিনি স্পষ্ট জানালেন, শিক্ষা এমন একটি বিষয় যা গোটা দেশের মানুষকে একসঙ্গে প্রভাবিত করে। তাই রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ চলছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন পড়ুয়া, অভিভাবক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশনেও বসেছেন। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে লক্ষাধিক পড়ুয়া সংসদ ভবন অভিযানে অংশ নেন। সেই বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছোড়া এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে এক্স মাধ্যমে অভিনব বিন্দ্রা লেখেন, আমি কখনও রাজনীতিতে ছিলাম না। কিন্তু কিছু বিষয় আছে যা গোটা দেশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। শিক্ষা ব্যবস্থা তার মধ্যে অন্যতম। এটাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। আশা করি আমরা সবাই একজোট হয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করব।I have never considered myself a political person. But I do believe that some issues belong to all of us, regardless of where we stand. Education is one of them.The measure of a nation is found not only in its economy or its achievements, but in the opportunities it creates for Abhinav A. Bindra OLY (@Abhinav_Bindra) July 23, 2026বিন্দ্রা কোনও রাজনৈতিক পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবেই নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তবে নিট ইস্যুতে অন্য ক্রীড়াতারকারাও মুখ খুলেছেন। সানিয়া মির্জা পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, তাঁদের কণ্ঠস্বর শোনা দরকার এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। অন্যদিকে শিখর ধাওয়ান যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সরকারের উপর ভরসা রাখার কথা বলেছেন।নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অভিনব বিন্দ্রার মতো একজন জাতীয় আইকনের মন্তব্য শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনে দিল।

জুলাই ২৩, ২০২৬
দেশ

নিট প্রশ্নফাঁসে দিল্লি অবরুদ্ধ! রাহুলের মিছিলে ব্যারিকেড, বন্ধ ইন্টারনেট

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা আরও বাড়ল। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সমর্থনে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা গান্ধী স্মৃতিস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা তিনটি বাসে করে সেখানে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন।পুলিশ আগেই ওই এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। পথে একাধিক ব্যারিকেড বসানো হয়, যাতে মিছিল এগোতে না পারে। রাহুল গান্ধী জানান, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতেই এই পদযাত্রা। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বিরোধীরা একজোট হয়েছে।এর আগে বিকেলে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আন্দোলনকারীদের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে।অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কনৌট প্লেস এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রতি বিরোধী শিবিরের এই প্রকাশ্য সমর্থন রাজধানীর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

জুলাই ২৩, ২০২৬
দেশ

বিরোধীদের চাপের মুখে কি নতি স্বীকার? নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সরকারের বড় ঘোষণা

নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র সরকার। বুধবার সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিট প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিরোধীরা সরব। একই সঙ্গে আন্দোলনে নামে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি জানায়।সোমবার সিজেপি সংসদ অভিযানের ডাক দেয়। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের কাছে ধরনায় বসেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী -সহ কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অখিলেশ যাদবও। পরে দিল্লি পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।ধরনার সময় কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তখন তিনি নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগ, সেই আশ্বাসের পরও রাহুল গান্ধী ধরনা তুলতে রাজি হননি।এই পরিস্থিতিতে কিরেণ রিজিজু বলেন, বিরোধীরা আলোচনার সময় তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবে। কেউ তাদের বাধা দেবে না। কিন্তু আলোচনা শুরুর আগেই যদি শর্তের পাহাড় তোলা হয়, তাহলে বোঝা যায় তারা আসলে আলোচনা চায় না।সরকারি সূত্রের খবর, বিরোধীরা চাইলে বৃহস্পতিবার থেকেই নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হতে পারে।

জুলাই ২২, ২০২৬
দেশ

নিট কেলেঙ্কারির ভয়ংকর ফাঁস! “৫০০-৬০০ নম্বর নিশ্চিত”, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে বিস্ফোরক তথ্য

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত শুভম খয়েরনার পরীক্ষার্থীদের ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেই ফাঁস হয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।নিট ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তভার এখন সিবিআইয়ের হাতে। ইতিমধ্যেই জাতীয় পরীক্ষাকর্তা সংস্থা পরীক্ষা বাতিল করেছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দিনও ঘোষণা করা হয়েছে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া শুভম খয়েরনার গত এপ্রিল মাসেই তার সাপ্লায়ার যশ যাদবকে জানিয়েছিল যে প্রশ্নপত্রের কপি জোগাড় হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ২৯ এপ্রিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করে প্রলোভন দেখানো।অভিযুক্তরা পড়ুয়াদের বোঝাত, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিলে তারা নিশ্চিতভাবে বেশি নম্বর পাবে এবং দেশের নামী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ চলত মূল অভিযুক্তদের মধ্যে। সেখানে পরীক্ষার্থীদের ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হত।সিবিআই ইতিমধ্যেই শুভমের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। চ্যাটের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কপিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও শিকর-সহ দেশের বিভিন্ন বড় কোচিং কেন্দ্রে এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীর, বিহার এবং কেরলেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।শুভম খয়েরনার বয়স ৩০ বছর। নাসিকের ইন্দিরানগরের বাসিন্দা সে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র হলেও কখনও ডাক্তারি পাশ করতে পারেনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিটের প্রশ্নপত্র কিনে পরে তা ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয় সে।এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে বড় চক্র কাজ করছিল, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে তদন্তে।

মে ১৫, ২০২৬

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটিতে ইতি! সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতের

২০২৭ সালের দুর্গাপুজো থেকে বদলাতে চলেছে সরকারি হাসপাতালের ছুটির রীতি। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বিশেষ রোস্টার, অর্ধেক থাকবেন অ-চিকিৎসক কর্মী। চিকিৎসক ও নার্সদের থাকতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিউটিতে।কলকাতা: দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি বা ছুটি-ছুটি মেজাজের দিন শেষ হতে চলেছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে। স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা দীর্ঘদিনের এক অলিখিত রীতিতে এবার ইতি টানার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আগামী বছর থেকে পুজোর ছুটিতে হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো জরুরি ক্ষেত্রে দীর্ঘ ছুটির প্রচলিত ধারণা বদলানোই সরকারের লক্ষ্য।শুক্রবার, বিজয়া দশমীর পর দ্বাদশীর দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অন্যান্য সরকারি দফতরের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কাজের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি অফিসে ছুটির প্রভাব এক রকম হলেও হাসপাতালের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে রোগীর চিকিৎসা, জরুরি বিভাগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা কোনওভাবেই বন্ধ রাখা যায় না। তাই পুজোর সময়েও পর্যাপ্ত কর্মী নিয়ে হাসপাতাল চালু রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ১৯৪৭ সালের পর থেকে রাজ্যে কার্যত একটি অলিখিত রীতি চলে আসছিল। ষষ্ঠী থেকেই সরকারি দফতরগুলিতে পুজোর আবহে কাজের গতি কমে যেত, আর সেই ছুটির রেশ চলত লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। কিন্তু হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ ছুটি-ছুটি ভাব আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়ার প্রচলিত রেওয়াজ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।আগামী বছর থেকে কী নিয়ম চালু হবে?স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের দুর্গাপুজো থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীএই চার দিনের জন্য বিশেষ ডিউটি রোস্টার চালু থাকবে। হাসপাতালের পরিষেবা সচল রাখতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। অ-চিকিৎসক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই চার দিনে মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে কাজে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আগাম নির্দিষ্ট ছুটির রোস্টার থাকবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। হাসপাতালের প্রয়োজন এবং পরিষেবার চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থাৎ, পুজোর দিনগুলিতে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কাজের প্রয়োজনের উপর।এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুজোর সময়েও হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা, রোগী সামলানো এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।এ বছর থেকেই কাজে ফেরার নির্দেশশুধু আগামী বছরের পরিকল্পনাই নয়, চলতি বছরেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শারদ্বত। তাঁর দাবি, অন্যান্য সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে শুরু করে সাফাইকর্মীবিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কাজে ফিরেছেন।এমনকি যাঁরা আগে থেকেই ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতির অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালগুলিতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন অগ্রাধিকার।পরিষেবা সচল রাখাই মূল লক্ষ্যদুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির প্রচলন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে পুজোর সময় চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে নতুন রোস্টার কীভাবে কার্যকর হবে, হাসপাতালভিত্তিক কর্মী বণ্টন কীভাবে হবে এবং চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব নির্ধারণে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট, আগামী বছর থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পুজোর ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বদল আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুমেও যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও শিথিলতা না আসে, সেই লক্ষ্যেই ছুটির বদলে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের! আতঙ্কের মাইকিংয়ে গ্রেফতার আরও এক ঘোষক, ধৃতের সংখ্যা ২

সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণার অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে দুই ঘোষকের নাম। কেন এমন ঘোষণা, নেপথ্যে কারও নির্দেশ ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয় ঘিরে তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ঘোষণার ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম কুশল মজুমদার। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। অভিযোগ, এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আতঙ্কিত দর্শনার্থীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। যদিও ওই ঘোষণার উদ্দেশ্য এবং তার সঙ্গে বিপর্যয়ের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজনের খোঁজঘটনার পরই মণ্ডপে মাইক থেকে কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল। অবশেষে দ্বিতীয় সন্দেহভাজন কুশল মজুমদারকেও পাকড়াও করা হল।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুর খোঁজ মিলছিল না। তাঁর বাড়িতে গিয়েও পুলিশ তাঁকে পায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করে পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন আটটি মোবাইল নম্বরের উপর নজরদারি চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।আতঙ্কের ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে প্রশ্নচোরবাগান কাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা যায়। একটি ভিডিয়োতে গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। অন্য একটি ভিডিয়োতে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের ভিতরে কয়েক মিটার দূরেই ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। আতঙ্কিত দর্শনার্থীদের চিৎকারের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায় এক পুলিশকর্মীকে।এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইক থেকে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং অনেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি। তদন্তের স্বার্থে ভিডিয়োগুলির সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও ওই ঘোষণার বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে।নির্দেশ দিয়েছিল কে? খতিয়ে দেখছে পুলিশতদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। মণ্ডপে যখন ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তখন ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা করা হয়? ঘোষকরা কি নিজেরাই এমন কথা বলেছিলেন, নাকি তাঁদের পিছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হলেও তা কীভাবে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারদুজনেরই বাড়ি অমর বসু সরণিতে, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া সঞ্জীবকে শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল বলে জানা গিয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুলিশের।চোরবাগানের বিপর্যয় ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে মাইকে করা ওই ঘোষণা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে গ্রেফতারের পর এবার এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেদিকেই নজর কলকাতার।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

পরকীয়ার সন্দেহে দাম্পত্যে অশান্তি, বাড়ি ফিরতেই চরম পরিণতি! বংশীহারিতে স্বামী খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী

দেড় বছরের দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তিকে ঘিরে বিবাদ, ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার স্ত্রী, তদন্তে পুলিশ।পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরেই স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিকাশ রায়। তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়ই কলোনির দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে এলাকারই বাসিন্দা শিউলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সংসার চালানোর জন্য কলকাতায় কাজ করতেন বিকাশ। সেই কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হত তাঁকে।অভিযোগ, বিকাশ বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী যুবক অনুপ দাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শিউলি। অনুপ পেশায় টোটোচালক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই সম্পর্কের কথা ক্রমে জানাজানি হয়ে যায়। সম্প্রতি বাড়ি ফেরার পর বিষয়টি বিকাশেরও নজরে আসে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল বলে দাবি পরিবারের।ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিকাশ ও শিউলিকে ঘরের বাইরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বারবার ডাকাডাকি করলেও প্রথমে কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। পরে শিউলি দরজা খুললে ঘরের মেঝেতে বিকাশের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বংশীহারি থানায়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে বিকাশের মৃত্যু হল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের তরফে শিউলির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বিকাশের পরিবারের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, নিজের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই পরিকল্পনা করে তাঁর দাদাকে খুন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দেড় বছরের দাম্পত্যের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের পিছনে থাকা সমস্ত তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়, নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশ! কিউয়িদের ২২৫ রান টপকে সিরিজে এগিয়ে ভারত

ক্রাইস্টচার্চে চার উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয় টিম ইন্ডিয়ার, শেষ মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিলেন নমন ধীর। তবে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েও বোলিংয়ের দুর্বলতা ঢাকতে পারল না ভারত।সঞ্জুর ব্যাটে ঝড়, নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশ! কিউয়িদের ২২৫ রান টপকে সিরিজে এগিয়ে ভারতনিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতেই রুদ্ধশ্বাস জয় ভারতের। গ্লেন ফিলিপ্সের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২২৫ রানের পাহাড় গড়েও শেষরক্ষা হল না কিউয়িদের। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো অর্ধশতরান এবং শ্রেয়স আইয়ারের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর শেষবেলায় ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন নমন ধীর। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দুই বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেলেন সূর্যকুমার যাদবরা।নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ফিলিপ্সের দাপটটস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বড় রানের লক্ষ্যে এগোতে থাকে নিউজিল্যান্ড। ভারতের বোলাররা নিয়মিত চাপ তৈরি করতে না পারায় ক্রমশ হাত খুলে খেলার সুযোগ পান কিউয়ি ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তোলে স্বাগতিক দল। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের নজিরও গড়ে নিউজিল্যান্ড।কিউয়িদের ইনিংসের মূল আকর্ষণ গ্লেন ফিলিপ্স। কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলিংকে কার্যত দিশেহারা করে দেন তিনি। ৪৮ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন ফিলিপ্স। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক শটের সম্ভার। ইনিংসের শেষ বলেও সুইচ হিটে চার মেরে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন এই কিউয়ি তারকা।ফিলিপ্সকে যোগ্য সঙ্গত দেন ফিন অ্যালেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪৫ রান। এ ছাড়া বেভন জ্যাকবসের ৩১ এবং ড্যারিল মিচেলের ২৮ রানের ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেয়। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং ও ময়াঙ্ক যাদব একটি করে উইকেট নেন। তবে রান আটকানোর ক্ষেত্রে ভারতীয় বোলারদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শেষের দিকে কিউয়ি ব্যাটারদের আগ্রাসন সামলাতে পারেননি তাঁরা।সঞ্জুর বিধ্বংসী শুরু, পাওয়ার প্লে থেকেই চাপে কিউয়িরা২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন দুই ওপেনার। সঞ্জুর ব্যাটে চার-ছক্কার বন্যায় দ্রুত বাড়তে থাকে ভারতের রান। মাত্র ২৩ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শুরুতে কিউয়ি বোলারদের কোনও সুযোগই দিতে চাননি ভারতীয় ওপেনার।অভিষেক শর্মাও ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ১২ বলে ২৯ রান করে দলের রানকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। ফলে পাওয়ার প্লে-র পরেও রান তোলার গতি কমেনি ভারতের। সপ্তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারকে চার মেরে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করান সঞ্জু। আট ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় এক উইকেটে ১১২।কিন্তু এই ঝোড়ো শুরুই শেষ পর্যন্ত সহজ জয় এনে দিতে পারেনি ভারতকে। স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই বদলাতে থাকে ম্যাচের ছবি। ব্রেসওয়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অভিষেক। এরপর তিলক বর্মার ব্যাট থেকেও প্রত্যাশিত রান আসেনি। ১১ বলে মাত্র ছয় রান করে আউট হন তিনি।এর মধ্যেই স্যান্টনারের বলে প্লেড-অন হয়ে সাজঘরে ফেরেন সঞ্জু। ৩৩ বলে ৬৭ রানের দুরন্ত ইনিংসে আটটি চার ও চারটি ছক্কা মারেন তিনি। ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিলেও ম্যাচ শেষ করে যেতে পারেননি এই ওপেনার।মাঝের ওভারেই পাল্টে গেল ম্যাচের চিত্রসঞ্জু আউট হওয়ার পর ভারতের ব্যাটিংয়ে চাপ বাড়তে থাকে। তিন নম্বরের পরিবর্তে পাঁচ নম্বরে নামা ঈশান কিষাণও ব্যর্থ হন। মাত্র তিন বল খেলে এক রান করে ফেরেন তিনি। একসময় বিনা উইকেটে ৯৩ রান তুলে ফেলা ভারত অল্প সময়ের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।এরপর অক্ষর প্যাটেল ১৪ বলে ২৪ রান করে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় ম্যাচের রাশ ক্রমশ কিউয়িদের হাতে চলে যাচ্ছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি। ২৮ বলে ৪২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হন শ্রেয়স।শেষ ১২ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৬ রান। চাপের মুখে ম্যাচ তখন কার্যত দোলাচলে। এমন পরিস্থিতিতেই ক্রিজে নিজের উপস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে দেন নমন ধীর। দ্রুত রান তুলে ম্যাচের সমীকরণ বদলে দিতে শুরু করেন তিনি। কিউয়ি বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ভারতকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দেন এই ব্যাটার।শেষ ওভারে নমনের বিস্ফোরণ, জয় ভারতেরশেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল আট রান। উত্তেজনায় টানটান ম্যাচে তখন সামান্য ভুলও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারত। কিন্তু নমন ধীর কোনওরকম স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়েননি। বরং সুযোগ বুঝে আক্রমণাত্মক শট খেলেন তিনি। ম্যাট হেনরির বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দুই বল বাকি থাকতেই ভারতের জয় নিশ্চিত করেন নমন।মাত্র ১৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। সঞ্জুর বিধ্বংসী সূচনা এবং শ্রেয়সের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর নমনের এই ফিনিশিং ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি এনে দেয়। বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসও নিঃসন্দেহে বাড়াবে এই জয়।কিউয়িদের ফিল্ডিং ব্যর্থতাও ভারতের জয়ের বড় কারণতবে ভারতের জয়কে সহজ করে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংয়ের একাধিক ভুল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাঁচটি ক্যাচ ফেলে দেন কিউয়ি ফিল্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ব্যাটাররা ম্যাচে টিকে থাকার পাশাপাশি রান তোলার গতি বজায় রাখেন। শেষ পর্যন্ত ফিল্ডিংয়ের এই দুর্বলতার মূল্য দিতে হয় স্বাগতিক দলকে।যদিও ভারতের ফিল্ডিংও খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছিল না। দুই দলের ফিল্ডিংয়েই একাধিক ভুল চোখে পড়েছে। ফলে ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়ে জয় এলেও ভারতীয় দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।জয় এল, কিন্তু চিন্তা বাড়াল বোলিংম্যাচ জিতলেও ভারতীয় বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গা কম। ২০ ওভারে ২২৫ রান খরচ করে কিউয়িদের বড় স্কোরে পৌঁছতে দেওয়া নতুন করে উদ্বেগ বাড়াবে টিম ম্যানেজমেন্টের। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ডেথ ওভারে রান আটকাতে না পারা ভারতের দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।বড় রান তাড়া করে জয় পাওয়ার নজির আগেও রয়েছে ভারতের। তবে এই ম্যাচে ব্যাটাররা যেভাবে পরিস্থিতি সামলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন, বোলারদের কাছ থেকেও তেমনই কার্যকর পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করবে দল। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে সেই ঘাটতি মেটানোই হবে ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।সব মিলিয়ে ক্রাইস্টচার্চে প্রথম টি-টোয়েন্টি ভারতের কাছে একদিকে স্বস্তির জয়, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও। সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটিং, শ্রেয়স আইয়ারের লড়াই এবং নমন ধীরের অবিশ্বাস্য ফিনিশিং ম্যাচ জিতিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বোলিংয়ের দুর্বলতা দূর করতে না পারলে পরের ম্যাচগুলিতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে ভারতকে। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে নজর থাকবে সেই দিকেই।ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফলনিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ২২৫/৪ভারত: ১৯.৪ ওভারে ২৩০/৬ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ীসঞ্জু স্যামসন: ৩৩ বলে ৬৭শ্রেয়স আইয়ার: ২৮ বলে ৪২নমন ধীর: ১৫ বলে অপরাজিত ৪২গ্লেন ফিলিপ্স: ৪৮ বলে অপরাজিত ৮২

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইস্টবেঙ্গলের ঘরে নতুন লগ্নির আলো! উৎসবেই কি চমক, বিনিয়োগকারী হিসেবে উঠে আসছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম?

ইমামির বিদায়ের পর লাল-হলুদের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার সম্ভাবনায় নতুন আশার সঞ্চারইমামি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিনিয়োগকারী হিসেবে সম্পর্কের অবসানের পর থেকেই নতুন পৃষ্ঠপোষকের সন্ধানে ছিল ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এবার লাল-হলুদের বিনিয়োগকারী হওয়ার দৌড়ে উঠে এল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (এইচপিএল) নাম। সূত্রের খবর, ক্লাব ও সংস্থার মধ্যে কথাবার্তা বেশ কিছুটা এগিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে উৎসবের মরশুমেই নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে বড় ঘোষণা করতে পারে ইস্টবেঙ্গল। যদিও চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের কাছে নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া শুধুমাত্র আর্থিক সংস্থানের প্রশ্ন নয়, আগামী দিনের ফুটবল পরিকল্পনার সঙ্গেও তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দল গঠন, ভালো মানের ফুটবলারদের ধরে রাখা, নতুন প্রতিভা তুলে আনা এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নসব ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক অর্থের জোগান প্রয়োজন। সেই জায়গায় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক লাল-হলুদ শিবিরকে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সংস্থাকে ঘিরে প্রত্যাশাহলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দ্য চ্যাটার্জি গ্রুপ (টিসিজি)। এই সংস্থা হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রধান উদ্যোক্তা। পাশাপাশি, সংস্থাটিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও অংশীদারি রয়েছে। ফলে এই সম্ভাব্য সমীকরণ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অন্যতম পরিচিত শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।তবে শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ক্লাবের সম্ভাব্য সম্পর্কের গুরুত্ব যতই থাকুক, চুক্তির আর্থিক কাঠামো এবং পরিচালন সংক্রান্ত শর্তগুলি কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নতুন বিনিয়োগকারী ক্লাবের দৈনন্দিন পরিচালনায় কতটা ভূমিকা নেবে, ফুটবল দলের বাজেট কতটা বাড়বে কিংবা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় কী ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে, সে সবই এখন দেখার বিষয়।ইমামির বিদায়েই শুরু নতুন অধ্যায়গত ২৫ অগস্ট বিবৃতি দিয়ে ইমামি গোষ্ঠী জানিয়ে দিয়েছিল, ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী হিসেবে তাদের ভূমিকার অবসান ঘটছে। গত আইএসএল মরশুম শেষ হওয়ার পর থেকেই এই বিচ্ছেদের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্যের খবরও সামনে এসেছিল। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, ইমামির জায়গায় লাল-হলুদের আর্থিক দায়িত্ব সামলাবে কোন সংস্থা?চলতি মরশুমের শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ইমামির লোগো না দেখা যাওয়ায় সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জার্সিতে ছোট আকারে ফিরে আসে ইমামির লোগো। তার আগে থেকেই ইঙ্গিত মিলছিল, বিনিয়োগকারীর ভূমিকা থেকে সরে গেলেও ক্লাবের সঙ্গে স্পনসর হিসেবে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী সংস্থাটি।পরে ইমামির বিবৃতিতেও সেই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। সংস্থার তরফে জানানো হয়, বিনিয়োগকারী ও পরিচালন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরে এলেও স্পনসর হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের পাশে থাকবে তারা। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেদের শেয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ভোটাধিকার ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, বিনিয়োগের অধ্যায় শেষ হলেও লাল-হলুদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার পথে হাঁটেনি ইমামি।আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটানোর অপেক্ষানতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফুটবলারদের বেতন বকেয়া থাকার খবর সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। নতুন মরশুমে দল গঠন, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য খরচের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।এই পরিস্থিতিতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সামনে আসা লাল-হলুদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ক্লাবের আর্থিক পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী দল গড়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা মিলতে পারে।তবে নতুন বিনিয়োগকারী এলেই যে সমস্ত সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়ার অবকাশ নেই। বিনিয়োগের পরিমাণ, অর্থ প্রদানের সময়সূচি, ক্লাব পরিচালনায় অংশীদারিত্ব এবং ফুটবল বিভাগের জন্য বরাদ্দপ্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সেই শর্তগুলির উপরেই নির্ভর করবে নতুন সমীকরণে ইস্টবেঙ্গল কতটা লাভবান হবে।উৎসবের মরশুমেই কি লাল-হলুদে নতুন সূর্যোদয়?ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকদের কাছে নতুন বিনিয়োগকারী পাওয়ার সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। ঐতিহ্য, বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী এবং সাফল্যের প্রত্যাশা থাকা সত্ত্বেও আধুনিক ফুটবলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজন শক্তিশালী আর্থিক ভিত। সেই ভিত মজবুত করার লক্ষ্যেই এখন নজর নতুন বিনিয়োগকারীকে ঘিরে।সূত্রের খবর অনুযায়ী, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে থাকায় উৎসবের মরশুমে ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ না চুক্তি সম্পূর্ণ হচ্ছে এবং ক্লাব বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসছে, ততক্ষণ বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখতে হবে।শেষ পর্যন্ত হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের গাঁটছড়া বাঁধা হলে তা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। এখন অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সেই ঘোষণাই স্পষ্ট করবে, নতুন বিনিয়োগের হাত ধরে লাল-হলুদ শিবির কতটা নতুন পথে এগোতে পারে।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা, ২০২৭-এর পুজোর আগেই আগাম প্রস্তুতি! শ্যামপুরে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। শ্যামপুরে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন, নদীবাঁধ মেরামতি, কর্মসংস্থান ও আবাস যোজনা নিয়েও একাধিক ঘোষণা করলেন তিনি।শ্যামপুর: উৎসবের আনন্দের মধ্যে চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় যে বেদনার ছায়া নেমে এসেছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে চায় রাজ্য সরকার। ২০২৭ সালের পুজোয় যাতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চোরবাগানের ঘটনা থেকে শুরু করে রাজ্যের উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এ দিন বিশেষ গুরুত্ব পায় চোরবাগানের দুর্ঘটনা। প্রথম সপ্তমীর রাতে ওই ঘটনায় প্রাণহানির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দের মধ্যেই বেদনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, এই ঘটনার তদন্ত হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন বিপর্যয় আর না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের পরিবারের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। বাকি ছটি পরিবারের সঙ্গে ২৩ ও ২৪ তারিখের মধ্যে দেখা করার পরিকল্পনার কথাও জানান। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ২৫ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ক্ষতিপূরণ দিয়ে স্বজনহারা পরিবারের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেন তিনি।শ্যামপুরের অতীত প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক আক্রমণবিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চ থেকে শ্যামপুরের কয়েক বছর আগের অশান্তির প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, এক সময়ে যাঁরা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, তাঁদেরই এখন প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে। দুর্গাপ্রতিমা ভাঙার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর আরও মন্তব্য, যাঁরা দুর্গাঠাকুর ভেঙেছিলেন, তাঁদের মা দুর্গাই ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এ দিনের অনুষ্ঠানে এলাকার উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।১৪ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র হবে ১০০ শয্যারশ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে এলাকায় ১৪ শয্যার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেটিকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার আশ্বাস দেন তিনি। শুধু শয্যা বাড়ানোই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবা চালুর কথাও ঘোষণা করেন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।নদীবাঁধের ভাঙন রোধে উদ্যোগ, কাঠের সেতুর বদলে পাকা ব্রিজপ্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে শ্যামপুরের পরিকাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এই এলাকায় নদীবাঁধের ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় থাকা কাঠের সেতুগুলিকে পাকা সেতুতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বোয়ালিয়ায় একটি বড় সেতু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।শ্যামপুরে পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী তিনি। এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।আগামী ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতিকর্মসংস্থান প্রসঙ্গেও এ দিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতিশ্রুতি, আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে রাজ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেন তিনি। তবে কোন কোন দপ্তরে কত পদে নিয়োগ হবে এবং তার বিস্তারিত সময়সূচি কী, সে বিষয়ে এ দিনের বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজের নির্দেশ, আবাস যোজনায় আরও ২৫ লক্ষ বাড়িগ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিকশিত ভারত ভিবি-জিরামজি প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে আগামী ছমাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, ১২৫ দিনের কর্মসূচিতে ৩৭০ ধরনের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি।আবাস যোজনার পরবর্তী ধাপে আরও ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ এলাকার মানুষের বাসস্থানের চাহিদা পূরণ এবং স্থানীয় পরিকাঠামোর উন্নয়নকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।চোরবাগানের দুর্ঘটনা এ দিনের অনুষ্ঠানে শোক ও সতর্কতার বার্তা নিয়ে এলেও, একই মঞ্চ থেকে শ্যামপুরের স্বাস্থ্য পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, কর্মসংস্থান এবং আবাসন নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এখন নজর থাকবে, ঘোষিত প্রকল্পগুলির কতটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হয় এবং আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে দুর্ঘটনা রোধে কী ধরনের আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
দেশ

যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে ‘না’, জামিনের শর্তে কী মুচলেকা দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা?

এক সপ্তাহ তিহাড়ে কাটিয়ে মুক্তি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের, ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনজ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এখনও অনড় দুই নেতা।এক সপ্তাহ জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। বুধবার বিকেলে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। তবে মুক্তির পথ একেবারে শর্তহীন ছিল না। ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অনুমতি ছাড়া প্রতিবাদ কর্মসূচি না করা এবং শান্তিভঙ্গকারী কোনও কাজে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়েছে দুই নেতাকে। মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডেও সই করেছেন তাঁরা।প্রশাসনের নির্ধারিত বিধি উপেক্ষা করে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানোর অভিযোগেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরেও সেখানে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ককরোচ জনতা পার্টির কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুলিশি পদক্ষেপ এবং পরবর্তী সময়ে দুই নেতার জেলযাত্রা।জামিনের শর্তে কী জানালেন দুই নেতা?জামিনের শুনানিতে আশুতোষ ও সৌরভের বক্তব্য ছিল, দেশের আইন ও সংবিধান মেনেই তাঁরা ভবিষ্যতে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করবেন। যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করবেন না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুই নেতা।প্রশাসনিক বিধিনিষেধ মেনে চলার এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। দুই নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে।তিন দিনের অতিরিক্ত হেফাজতের আবেদন খারিজসূত্রের খবর, আশুতোষ ও সৌরভকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। বুধবার বিকেলে জামিনের নির্দেশ দেওয়ার পর রাতের দিকে তাঁদের তিহাড় জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ফলে প্রায় এক সপ্তাহের বন্দিজীবনের অবসান ঘটে দুই নেতার।জেল থেকে বেরিয়েও অবস্থান বদল নয়জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেও নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি আশুতোষ ও সৌরভ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা এখনও অনড়। ককরোচ জনতা পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় দুই নেতাকে স্লোগান দিতেও দেখা গিয়েছে। সেখানে তাঁদের মুখে শোনা যায়, ভারতমাতা কি জয়, ইনকিলাব জিন্দাবাদ-এর পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে স্লোগান।অন্যদিকে, জেলজীবন নিয়ে আশুতোষের মন্তব্যও নজর কেড়েছে। মুক্তির পর তিনি জানিয়েছেন, তিহাড় জেলের খাবার বেশ ভালো। তবে জেলবন্দি হওয়ার অভিজ্ঞতা কিংবা জামিনের শর্তকোনও কিছুই যে তাঁদের রাজনৈতিক দাবিতে প্রভাব ফেলেনি, তাঁদের বক্তব্য ও স্লোগানে সেই বার্তাই স্পষ্ট।সব মিলিয়ে, জামিনে মুক্তি পেলেও ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতার আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। একদিকে জামিনের শর্ত মেনে চলার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানএই দুইয়ের মধ্যে আগামী দিনে তাঁরা কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যান, এখন সেদিকেই নজর।

অক্টোবর ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal